জামালপুরে ভয়াবহ বন্যা, ভাঙন শুরু

জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমা আসা পাহাড়ি ঢলে দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুরের যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, দশানী ও জিঞ্জিরাম নদীর বেড়ে নদী তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়ছে তীরবর্তী এলাকার মানুষ। প্রতিদিনই প্রায় ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে প্রায় এক হাজার পরিবার। শনিবার (১০) জুলাই) দুপুরে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট এলাকায় যমুনার পানি বিপৎসীমার মাত্র ৫৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এই মৌসুমে জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। উপজেলার প্রায় শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। উপজেলার সাথে ইউনিয়নের যোগাযোগের রাস্তা দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ী ও দেওয়ানগঞ্জ-সানন্দবাড়ী-রাজীবপুর সড়ক। এমনকি দুই বছর আগে নির্মিত হওয়া বাহাদুরাবাদ নৌ-থানা’র অল্প কিছু দূরত্বে রয়েছে সর্বগ্রাসি যমুনা। এই ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে এই মৌসুমেই বিলীন হবে এই নব-নির্মিত স্থাপনাটি।

দেওয়ানগঞ্জের সাথে পাল্লা দিয়ে ভাঙ্গছে ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা, চরপুটিমারী , চরগোয়ালিনী , সাপধরী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা। ভাঙ্গনে কবলে পড়ে মসজিদ-মাদ্রাসা, বিদ্যালয়, কবরস্থান, ঈদগা মাঠসহ শতাধিক পরিবারের বসতি ও ফসলি জমি আজ বিলীন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের চর হলকা, হাবড়াবাড়ী গুচ্ছ গ্রাম, টিনেরচর এলাকায় প্রায় শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে। নদী ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আরো প্রায় এক হাজার পরিবার। এসব পরিবার যমুনার ভাঙনে হতাশায় রয়েছেন। এছাড়াও উপজেলার চিকাজানি ইউনিয়নের খোলাবাড়ী, হাজরাবাড়ী, চর মাগুরী হাট, মণ্ডল বাজার হুমকির মুখে রয়েছে।

অপরদিকে দশানী নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের ঝালোর চর, বাহাদুরাবাদ, পৌল্লাকান্দি, ঝালোরচর প্রাচীন জামে মসজিদ ও ঐতিহ্যবাহী ঝালোরচর হাট। হাতীভাঙ্গা ইউনিয়নের সবুজপুর, পশ্চিম কাঁঠারবিল, চরআমখাওয়া ইউনিয়নের জিঞ্জিরাম নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে, পশ্চিম সানন্দবাড়ী, লম্বাপাড়া, সবুজপাড়া, ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরের চর, মাখনের চর এলাকা।

চিকাজানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মমতাজ উদ্দীন আহাম্মেদ জানান, আমার এলাকায় প্রতিবছর যমুনা ও ব্রহ্মপুতত্রের তীব্র ভাঙ্গনে শতাধিক বিঘা জমি বিলীন হয়ে অনেকেই এখন নিঃস্ব প্রায়। আমার পাশের ইউনিয়নে নদীতে বাধ দেওয়ার কারণে ভাঙ্গন গত তিন বছর থেকে এই ইউনিয়নে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এই ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে সর্বস্ব হারাবে এই ইউনিয়নের জনগণ।

অপরদিকে দশানী নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের ঝালোর চর, বাহাদুরাবাদ, পৌল্লাকান্দি, ঝালোরচর প্রাচীন জামে মসজিদ ও ঐতিহ্যবাহী ঝালোরচর হাট। হাতীভাঙ্গা ইউনিয়নের সবুজপুর, পশ্চিম কাঁঠারবিল, চরআমখাওয়া ইউনিয়নের জিঞ্জিরাম নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে, পশ্চিম সানন্দবাড়ী, লম্বাপাড়া, সবুজপাড়া, ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরের চর, মাখনের চর এলাকা।

বাহাদুরাবাদ নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, যমুনার পানি বাড়তে থাকায় নদীর তীরবর্তী এলাকা ভাঙ্গনের কবলে পরেছে। গত বছর ভাঙ্গনে বাহাদুরাবাদ নৌ-থানাটি প্রায় বিলীনের অভিপ্রায় হচ্ছিল। উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষপে জিও ব্যাগ পাড়ে দিয়ে কিছুটা ভাঙ্গন রোধ করা গেছে। এবছর কিছুটা পলি পরে নদীর স্রোত কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। তবুও আমাদের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে এই বছর ব্যাবস্থা গ্রহনের কথা বলেছি। এবার ভাঙ্গন শুরু হলে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছন।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ জানান, বাহাদুরাবাদের ঝালোরচর হাট ও মসজিদের ব্যাপারে ভাঙন রোধ করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর এলজিডি সড়কগুলোর বিষয় উপজেলা প্রকৌশলী রিপোর্ট করলে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবগত করতে পারবো। এখন পর্যন্ত এলজিডি আমাদের কোন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেনি। তারা আমাদের লিখিতভাবে জানালে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

দেওয়াগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ জানান, এ বর্ষা মৌসুম শুরুতেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নদীর তীরবর্তী এলাকা ভাঙন শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন দপ্তরে রিপোর্ট করা হবে। এরই মধ্যে ঝালোরচর মসজিদ ও কাঠারবিল জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙ্গনের রাস্তা পরিদর্শন করা হয়েছে। এটি রক্ষার্থে জিও ব্যাগ ফেলার জন্য নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর পরেও কোন কিছু করার থাকলে আমরা প্রস্তুত আছি। সাথে সাথেই ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply